কবি নজরুল ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ জুলাই ২০১৯

ইতিহাস ও কার্যাবলি #

বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় যুগস্রষ্টা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি তাঁর বিস্ময়কর প্রতিভার যাদু স্পর্শে শুধু কবিতা নয় সংগীতেও রেখে গেছেন অতুলনীয় অবদান। আমাদের সাহস সৌন্দর্য ও শৈল্পিক অহংকারের মহত্তম নামটিও তাঁরই। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির প্রধান রূপকার এই মহান কবি আমাদের মানবিক চেতনারও প্রতীক। এজন্য তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর অমর স্মৃতি রক্ষা, তাঁর জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও সামগ্রিক অবদান সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রকাশনা ও প্রচার এবং তাঁর ভাব-মূর্তি দেশ-বিদেশে উজ্জ্বলরূপে তুলে ধরার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Nazrul Institute Ordinance 1984 অনুযায়ী ধানমণ্ডির ২৮নং সড়কের ৩৩০-বি বাড়িতে নজরুল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন ২০১৮’ আইনের অধীনে ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য- ১. সংগীত ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম দেশ ও বিদেশ হতে সংগ্রহ, সংকলন, সংরক্ষণ এবং প্রকাশ করা। ২. সকল সাহিত্যকর্ম অনুশীলনে উৎসাহিত করা। ৩. সাহিত্যকর্মের উপর গবেষণা, প্রকাশনা এবং প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ। ৪. সাহিত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কবির অবদান সম্পর্কে সম্মেলন, বক্তৃতা, বিতর্ক ও সেমিনারের আয়োজন করা। ৫. সংগীত ও সাহিত্য সম্পর্কিত পুস্তক, রেকর্ড, টেপ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য লাইব্রেরি/আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করা। ৬. সংগীত সঠিকভাবে চর্চা ও প্রচারের জন্য স্বরলিপি তৈরি করা এবং গ্রহণযোগ্য মর্যাদায় গ্রামোফোন রেকর্ড, বাণিজ্যিক টেপ, চলচ্চিত্র এবং বাংলাদেশে প্রকাশিত স্বরলিপি বইয়ের উপস্থাপনা ও তদারকি করা। ৭. সংগীত ও নজরুলের কবিতা আবৃত্তির যথার্থ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৮. সকল লেখক কবির সাহিত্যকর্মের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন তাঁদের পুরস্কার এবং পদক প্রদান করা।

কার্যক্রম :

গবেষণা  প্রকাশনা :

নজরুল ইন্সটিটিউট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগ্রামমুখর বর্ণাঢ্য জীবন, কবির জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও সামগ্রিক অবদান সম্পর্কে চার শতাধিক গ্রন্থ এবং ৪৯টি সিডি প্রকাশ করেছে। নজরুলের কাব্যগ্রন্থ, সংগীতগ্রন্থ, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্পসহ অন্যান্য নজরুল-বিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ এবং নজরুল-সংগীত স্বরলিপি গ্রন্থ, পত্রিকা, জার্নাল, বক্তৃতামালা, অ্যালবাম, পোস্টার ইত্যাদি অন্যতম।

নজরুল সংগীত স্বরলিপি প্রমাণীকরণ :

আদি গ্রামোফোন রেকর্ডে ধারণকৃত নজরুল সংগীতের বাণী ও সুর অনুযায়ী স্বরলিপি প্রমাণীকরণের জন্য সরকার ‘নজরুল সংগীত স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদ’ গঠন করেছে। উক্ত পরিষদ কবি নজরুল ইসলামের সুস্থাবস্থায় প্রকাশিত আদি গ্রামোফোন রেকর্ড-এর বাণী ও সুর অনুসরণে নজরুল-সংগীতের স্বরলিপি সত্যায়ন ও শুদ্ধতা যাচাই করে স্বরলিপি গ্রন্থ প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে নজরুল সংগীত স্বরলিপি ৩৭টি খণ্ড (প্রতি খণ্ডে ২৫ টি করে) ৯২৫টি শুদ্ধ নজরুল সংগীতের স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে। আরও তিনটি খণ্ড প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

আলোচনা-সভা  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী উদ্‌যাপনসহ বাংলাদেশের জাতীয় দিবসসমূহ, বাংলা নববর্ষ, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী প্রভৃতি দিবসে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, বিভিন্ন গ্রুপে সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাংকন, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সংগীতের প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নজরুল সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নজরুল সংগীত প্রশিক্ষণ কোর্স :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান যথাযথভাবে পরিবেশন, প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে নজরুল ইন্সটিটিউটের তত্ত্বাবধানে নজরুল সংগীতের আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুর অনুসরণে এবং নজরুল ইন্সটিটিউট প্রকাশিত প্রামাণ্য স্বরলিপি সহযোগে ১৯৮৯ সাল থেকে নজরুল সংগীত শিল্পী ও শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নজরুল সংগীতশিল্পী ও বিভিন্ন সংগীত একাডেমির শিক্ষকরা নিয়মিত নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রশিক্ষণ কক্ষে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া বৎসরব্যাপী শিশু-কিশোর এবং তরুণদের পৃথক পৃথক নজরুল সংগীত প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে।

আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কোর্স :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা শুদ্ধভাবে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে নজরুল ইন্সটিটিউটে শিশু-কিশোর এবং তরুণদের পৃথক পৃথক নিয়মিত আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বেতার, টেলিভিশন ও মঞ্চের আবৃত্তি শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এই প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তরুণদের তিনটি কোর্সের মাধ্যমে তিন শতাধিক আবৃত্তিশিল্পীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 ‘নজরুল-স্মৃতি পদক’/ ‘নজরুল পদক’ / ‘নজরুল পুরস্কার’ :

নজরুল-বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নজরুল গবেষণা, সংগীত সাধনায় যাঁরা অনন্যসাধারণ অবদান রেখেছেন তাঁদের পুরস্কৃত করাও নজরুল ইন্সটিটিউটের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নজরুল ইন্সটিটিউট ৩২ জন গুণী ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করেছে।

গ্রন্থাগার :

নজরুল ইন্সটিটিউটের একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগারে কবির গ্রন্থাবলী, রচনাবলী, নজরুল বিষয়ক গ্রন্থাদি ছাড়াও নজরুল গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রন্থাদি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অন্যান্য বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশী-বিদেশী মূল্যবান বই-পত্র-পত্রিকা রয়েছে। বিভিন্ন গ্রন্থাদি  ছাড়াও গ্রন্থাগারে রয়েছে নজরুলের হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি, আদি গ্রামোফোন রেকর্ড, নজরুল সংগীতের অডিও ক্যাসেট ও সিডি এবং কবির বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন। নজরুল ইন্সটিটিউট গ্রন্থাগারে নজরুল রচনা ও নজরুল-বিষয়ক গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ দেশের সর্বাধিক।

নজরুল জাদুঘর :

নজরুল ইন্সটিটিউটের অন্যতম গৌরবদীপ্ত যোজনা নজরুল  জাদুঘর। কবিভবনের যে গৃহে  কবি ১৯৭২-এর ২৪শে মে থেকে ১৯৭৫-এর ২২ জুলাই পর্যন্ত ৩ বছর ১ মাস ২৮ দিন বাস করে গেছেন সেই গৃহেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজরুল জাদুঘর। নজরুল জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে নজরুলের হস্তলিপির ফটোকপি, কাব্যগ্রন্থের দুর্লভ সংস্করণের ফটোকপি, দুর্লভ আলোকচিত্র, আদি গ্রামোফোন রেকর্ড, আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের অডিও ক্যাসেট এবং অন্যান্য নজরুল-স্মৃতিচিহ্ন। জাদুঘর কারয দিবসে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য খোলা থাকে।

মিলনায়তন :

জাতীয় কবির নামাঙ্কিত দেশের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান নজরুল ইন্সটিটিউট ধানমণ্ডি লেকের পাশে এক নৈসর্গিক পরিবেশে অবস্থিত। ইন্সটিটিউটে রয়েছে তিনশত আসনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়াম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীসহ নিজস্ব বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এ অডিটোরিয়ামে করা হয়ে থাকে। এছাড়া নির্ধারিত নীতিমালায় আওতায় মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে।

প্রকাশনা বিক্রয় কেন্দ্র :

নজরুল ইন্সটিটিউট প্রকাশিত যাবতীয় প্রকাশনা বিক্রয়ের জন্য ইন্সটিটিউটের নিচতলায় রয়েছে নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র। অফিস সময়ে বিক্রয় কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত কমিশনে সব ধরনের প্রকাশনা বিক্রয় করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রকাশনা বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

নজরুল কর্নার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীসহ বছর জুড়ে দেশ-বিদেশের নজরুল ভক্ত ও বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিসৌধ পরিদর্শনের জন্য আসেন। অনেকেই কবির রচনা ও সুভিনিয়র স্মৃতি হিসাবে সংগ্রহের ইচ্ছা থাকলেও গ্রন্থগুলি কাছে না পাওয়ার কারণে তা সংগ্রহ করতে পারে না। দেশ-বিদেশে কবি-সাহিত্যিকদের সমাধিস্থলে তাঁদের কর্ম, সৃষ্টি সম্ভার এবং বিভিন্ন স্যুভিনিয়র প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধটির প্রধান ফটকে এই উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়েছে ‘নজরুল কর্নার’। নজরুল ইন্সটিটিউট প্রকাশিত কবির রচনাবলী, নজরুল বিষয়ক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকা, জার্নাল ইত্যাদি প্রকাশনা নিয়মিত প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বইমেলা :

নজরুল রচনাসহ নজরুল বিষয়ক রচনা নজরুল-গবেষক, নজরুল অনুরাগী পাঠকসহ সকল পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার জন্য নজরুল ইন্সটিটিউট মাঝে মাঝে বইমেলার আয়োজন  করে।  এছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত বইমেলায় নজরুল ইন্সটিটিউট অংশগ্রহণ করে থাকে। দেশের বাইরে কলকাতা  ও দিল্লী বইমেলায়ও নজরুল ইন্সটিটিউট নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। এ সব মেলাগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রকাশনা বিক্রয় করা হয়ে থাকে।

জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণ :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অজর অমর স্মৃতি বিজড়িত স্থান ময়মনসিহের ত্রিশালের অন্তর্গত কাজীর সিমলা ও দরিরামপুর। নজরুল ১৯১৪ সালে দরিরামপুর হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন এবং কাজীর সিমলা ও দরিরামপুরে কিছুকাল অবস্থান করেন। দারোগা কাজী রফিজউল্লাহ কিশোর কবিকে বর্ধমানের আসানসোল থেকে কাজীর সিমলায় নিয়ে আসেন। কবির বিভিন্ন রচনায় এখানকার পরিবেশ ও জনজীবনের প্রভাব প্রতিফলিত। জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গবেষণার জন্য দরিরামপুর ও কাজীর সিমলায় যে-সব স্থানে কবির গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে সে জায়গাগুলোকে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। কবির স্মৃতি বিজড়িত কাজীর সিমলা গ্রামের দারোগা বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নজরুল-স্মৃতি পাঠাগার, মিলনায়তন ও বিশ্রামাগার। দরিরামপুর বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে নজরুল বিষয়ক জাদুঘর, পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই বাড়ির কাছেই স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক বটতলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা, দৌলতপুর, চট্টগ্রাম, রাউজান, সিলেট, রাজশাহী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নজরুল স্মৃতি রক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে নানামুখী উদ্যোগ। রাজধানীর বাংলা একাডেমীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজরুল স্মৃতিকক্ষ ও নজরুলমঞ্চ। চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজরুল স্কোয়ার।

কবি নজরুল তাঁর জীবনকালে মোট পাঁচবার কুমিল্লায় এসেছিলেন। কুমিল্লায় দুই নারীর প্রেম-বিরহ তাঁর জীবনের ভেতর ও বাহির আন্দোলিত করেছে, জুগিয়েছে প্রেমরস ও বিদ্রোহ। তাই নজরুল সাহিত্যে কুমিল্লা পেয়েছে এক অনবদ্য স্থান। কুমিল্লার মানুষ নজরুলের কুমিল্লার প্রতি ভালবাসাকে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রহণ করেছে। নজরুলও সমানভাবে ভালবেসেছিলেন কুমিল্লার মাটি ও মানুষকে। ফলে কুমিল্লায় নজরুল চর্চা শুরু হয়েছে দেশ বিভাগের পূর্ব থেকেই।

নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণ ও সৃষ্টিকর্মের প্রকাশ ও প্রচার করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পার্ক রোডস্থ ধর্মসাগরের উত্তর পাড়ে কুমিল্লা নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরুল চর্চা :

নজরুল আমাদের স্বাধীন সত্তার  ঐতিহাসিক রূপকার। নজরুলের ভাবমূর্তি, তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকর্ম  প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে নজরুল ইন্সটিটিউটের সহযোগিতায়  আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সেমিনার ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হলো : ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তেহরানে  গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে তিনদিনব্যাপী ‘বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে সম্মেলন’,  ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট  ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স-২০০২’, আমেরিকার কানেকটিকাট ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে   আয়োজন করা হয় ‘নজরুল সিম্পোজিয়াম-২০০৬’। এছাড়া  ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলন-২০০৬। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির এশিয়ান কালচারস  এন্ড লিটারেচারস ফ্যাকাল্টিতে গত  আগস্ট ২০০৬-এ Kazi Nazrul Islam : Bangladesh’s Forgotten Rebel Poet শীর্ষক একটি সেমিস্টার কোর্স চালু করেছে। নজরুল ইন্সটিটিউট এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে। ২০১০ সালে নিউইয়র্কে মুক্তধারার শিল্প-সাহিত্য সম্মেলন ও পুস্তক মেলায় নজরুল ইন্সটিটিউটের একক অংশগ্রহণ। ২০১১ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস ও কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাহী পরিচালকের নজরুল সম্পর্কিত বক্তৃতা প্রদান। একই বছর ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলন। ২০১২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজ আয়োজিত বক্তৃতা অনুষ্ঠানে নজরুল ইন্সটিটিউটের উপ-পরিচালকের অংশগ্রহণ। ওই বছরই  ISESCO ঘোষিত Dhaka Capital of Islamic Cultutre of Asian Region 2012 উপলক্ষে Selected Islamic Works of Kazi Nazrul Islam গ্রন্থ প্রকাশ ও মোড়ক উন্মোচন।


Share with :

Facebook Facebook